দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে কেবল জীবিত প্রবাসীরাই নন, মৃত প্রবাসীরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে বিদেশে মারা যাওয়া কর্মীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ দেশে এসেছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরেও এই খাত থেকে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ কোটি টাকা।

বিদেশে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় মারা গেলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, বীমা এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থই হয়ে ওঠে নিহত প্রবাসীর পরিবারের একমাত্র আর্থিক ভরসা। তবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সঠিকভাবে না করা হলে কিংবা ভুল ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিলে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং প্রতারণার ঝুঁকিও থাকে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড জানায়, শুধু ২০২৫ সালেই সাতটি দেশ থেকে ৬৯০ জন মৃত প্রবাসীর নামে ক্ষতিপূরণ এসেছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে একেকজনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকারও বেশি।

ক্ষতিপূরণ আদায় ও মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনে আইনি সহায়তা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লেবার অ্যাটাশে ও আইনজীবীর সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করেছে—বেসরকারি ল ফার্ম বা ব্যক্তিকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে, নইলে ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সব মিলিয়ে, প্রবাসীদের মৃত্যুর পর পাওয়া এই ক্ষতিপূরণ একদিকে যেমন দেশের রেমিট্যান্সে অবদান রাখছে, অন্যদিকে নিহত প্রবাসীদের পরিবারগুলোর টিকে থাকার গুরুত্বপূর্ণ সহায় হয়ে উঠছে।