
শোবিজ তারকাদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন অনেক সময় টেকসই হয় না। ভালোবেসে বিয়ে করলেও কয়েক বছর না যেতেই বিচ্ছেদের খবর শোনা যায়। সেই তালিকায় এবার নাম লিখেছেন ভারতের জনপ্রিয় গায়িকা মোনালি ঠাকুর। চুপিসারে বিদেশি প্রেমিককে বিয়ে করেও টিকতে পারল না তার সংসার।
করোনা মহামারির সময় মোনালি প্রকাশ করেছিলেন, তিন বছর আগে তিনি বিবাহিত হয়েছেন। তার স্বামী মাইক রিচটার একজন সুইজারল্যান্ডের রেস্তোরাঁর মালিক। এই বিবাহ এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোনালির মায়ের মৃত্যুতে গত বছর থেকে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের ফাটল প্রকাশ পেতে থাকে। দীর্ঘ দূরত্বের দাম্পত্য জীবন এবং পারস্পরিক দূরত্বের কারণে মোনালি এখন স্বামী মাইক থেকে আলাদা হতে চলেছেন।
এ প্রসঙ্গে, গায়িকা ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রামে তার স্বামীকে আনফলো করেছেন। বর্তমানে দুজনের মধ্যে কথাবার্তাও বন্ধ। খুব শিগগিরই তাদের বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
দম্পতির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কয়েক বছরের মধ্যে তাদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর কেউ তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে না এবং একসাথে থাকার সম্ভাবনাও নেই।
২০২০ সালে মোনালি জানিয়েছিলেন, একটি ট্রিপে ঘুরতে গিয়ে তিনি মাইকের সঙ্গে পরিচিত হন। এখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় এবং পরে বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেই বিয়ে দীর্ঘায়িত হতে পারেনি।

জনপ্রিয় ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা এবার বড় পর্দায় আসার সুখবর দিলেন। ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে খুব শিগগিরই তাকে সিনেমার পর্দায় দেখা যাবে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের মায়ের সম্মাননা পাওয়ার প্রসঙ্গে তিশা বলেন, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত।” তিনি তার সাফল্যের পেছনে মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “প্রত্যেক শিল্পীর সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনেক ত্যাগ থাকে। আজ আমি যে অবস্থানে আছি, তা কেবল আমার মায়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে। তাকে সম্মানিত হতে দেখে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।”
সিনেমা প্রসঙ্গে ভক্তদের আগ্রহের বিষয়ে তিশা বলেন, “আমার দর্শকরা যা দেখতে চান, আমি নিজেও সেটাই চাই। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানসম্মত ও ভালো বাজেটের প্রজেক্টে কাজ করার। খুব শিগগিরই আমাকে সিনেমায় দেখতে পাবেন।”
তিনি আরও জানান, দর্শকদের ভালোবাসা ও সমর্থনই তার অনুপ্রেরণার মূল উৎস। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিশা বলেন, “আজ আমি এই জায়গায় এসেছি শুধুমাত্র আমার দর্শকদের কারণে। আমার কিছু প্রকৃত ভক্ত আছেন, তাদের জন্যই আমার সব কিছু। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি চিরকাল ঋণী।”
ফ্যাশন শুট ও মডেলিং দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা তানজিন তিশা প্রথম জনপ্রিয়তা পান 'চোখেরি পলকে' গানের মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে। এরপর থেকে তার অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নেয়।

শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের ভক্ত-অনুরাগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের জনপ্রিয়তা এমন যে অনেক সময় ভক্তদের অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস বা পাগলামির কারণে তারকাদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সম্প্রতি এমনই এক মজার ঘটনা ঘটেছে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুলের সঙ্গে।
৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, পিয়া নিজেই ফেসবুকে এই ঘটনা ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন। জানা গেছে, এক ব্যক্তি মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অভিনেত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব পাঠান এবং তার ফোন নম্বর চেয়ে বসেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, পিয়া তাকে সরাসরি নাকচ বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং শেষের মেসেজের পর তিনি ওই ব্যক্তিকে একটি নম্বর দেন।
পিয়ার শেয়ার করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি একের পর এক মেসেজ পাঠাচ্ছেন। তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ না করলেও বার্তায় লিখেছেন, তিনি “দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীনভাবে অভিনেত্রীর প্রতি দুর্বল” এবং “একান্ত ব্যক্তিগত বন্ধু হতে চান।” তিনি আরও দাবি করেছেন, তাদের সম্পর্ক শুধু তার এবং পিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পৃথিবীর কেউ জানবে না। শেষ মেসেজে তিনি পুনরায় ফোন নম্বর চেয়েছেন।
কিন্তু পিয়ার কৌশল ছিল চতুর। তিনি যে নম্বরটি দিয়েছেন, তা আসলে গুলশান থানার। এই জটিল কিন্তু মজাদার কৌশলটি পিয়ার ভক্তদের বেশ আনন্দ দিয়েছে।
পিয়ার পোস্টে ভক্তদের মন্তব্যও ছিল বিনোদনময়। কেউ লিখেছেন, “কী অবস্থা!”, কেউ বলেছেন, “সোজা শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা দিয়েছেন!”, আবার কেউ হেসে লিখেছেন, “সে বলল পৃথিবীর কেউ জানবে না আর আপনি সবাইকে জানিয়ে দিলেন।” এই রকম হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়ায় পোস্টটি ভরে গেছে।
পিয়ার এই বিচক্ষণ ও মজাদার প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, কখনও কখনও তারকা হওয়া মানেই শুধু প্রশংসা নয়, একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে বিনোদনময় কৌশলও প্রয়োগ করা।

দেশের খ্যাতনামা লালন সংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন বর্তমানে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন আছেন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি কয়েকবার বমি করেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
ফরিদা পারভীনের অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, চিকিৎসা যতটা সম্ভব ভালোভাবে করা হচ্ছে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফরিদা পারভীন আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তার ফুসফুসে সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও থাইরয়েডের সমস্যার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত জটিলতা রয়েছে। বর্তমানে তিনি শ্বাসকষ্ট ও বমির সমস্যা নিয়ে ভর্তি রয়েছেন এবং তার অবস্থা কিছুটা জটিল।
সংগীতাঙ্গনে অনন্য অবদান রাখায় ফরিদা পারভীনের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত ও সহশিল্পীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সবাই তার সুস্থতা কামনা করছেন।
ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুল সংগীত গাইতে শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি সাধক মোকসেদ আলী শাহ থেকে লালন সংগীতে প্রশিক্ষণ নেন। সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদক পান। এছাড়া, শিশুদের লালন সংগীত শিক্ষা দেওয়ার জন্য ‘অচিন পাখি স্কুল’ নামে একটি সংগীত স্কুলও গড়ে তুলেছেন।