স্টার্টআপ

আদালতের রায়ে গুগল ভাঙছে না, বদলাতে হবে ব্যবসার ধরন
৭ মাস আগে

আদালতের রায়ে গুগল ভাঙছে না, বদলাতে হবে ব্যবসার ধরন

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের বিরুদ্ধে চলমান বহুল আলোচিত মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে আদালত। ফেডারেল বিচারক অমিত মেহতা জানিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজার ক্রোম বিক্রি করতে গুগলকে বাধ্য করা হবেনা। গত বছর সার্চ মার্কেটে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্তকে মামলার পরবর্তী বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


রায়ে বলা হয়েছে, গুগল আর ভবিষ্যতে এমন কোনো একচেটিয়া চুক্তি করতে পারবে না, যাতে ডিভাইস নির্মাতারা তাদের প্রোডাক্টে বাধ্যতামূলকভাবে গুগলের সেবা প্রি-ইনস্টল করে। একইসঙ্গে সার্চ ইঞ্জিন থেকে প্রাপ্ত কিছু তথ্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ভাগ করতেও হবে।

এই রায় গুগলের জন্য তুলনামূলক ইতিবাচক। কারণ প্রসিকিউশন চেয়েছিল কোম্পানিকে তার সার্চ ব্যবসা বিক্রি করতে বাধ্য করা হোক এবং অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ব্রাউজার খাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হোক। বিচারকের মতে, এ দাবিগুলো অতিরিক্ত কঠোর।


যদিও গুগল পুরোপুরি দায়মুক্ত হয়নি। আদালত স্পষ্ট করেছে, ক্রোম, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা জেমিনি অ্যাপের মতো সেবার ক্ষেত্রে আর কোনো একচেটিয়া বিতরণ চুক্তি করা যাবে না। তবে ডিস্ট্রিবিউটরদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া চলতে পারে। বিচারক মনে করেন, এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে প্রতিযোগিতা উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গুগলের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রকাশ করে। তবে সমালোচকরা ভিন্ন সুর তুলেছেন। অলাভজনক সংগঠন আমেরিকান ইকোনমিক লিবার্টিস প্রজেক্ট এই সিদ্ধান্তকে “সম্পূর্ণ ব্যর্থতা” বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক নিধি হেগড়ে মন্তব্য করেছেন— “কাউকে ডাকাতির দায়ে দোষী প্রমাণ করে ধন্যবাদ জানানোর মতো সাজা দেওয়া যায় না। গুগলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে।”


প্রসিকিউশন প্রমাণ দিয়েছে, অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো নির্মাতাদের বিলিয়ন ডলার দিয়ে গুগল নিশ্চিত করেছে যাতে তাদের ডিভাইসে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে গুগল সেট করা থাকে। এর ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের সার্চ মার্কেটের প্রায় ৯০ শতাংশ এখন গুগলের দখলে

বিচারক মেহতা বলেন, সার্চ খাতে গত এক বছরে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্চ ও চ্যাটবট প্রযুক্তির প্রসারের কারণে। তাই এই রায় কেবল প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং এআই-ভিত্তিক নতুন প্রযুক্তিতেও গুগলের প্রভাব সীমিত রাখার চেষ্টা।

এ ছাড়া অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রযুক্তিতে গুগলের একচেটিয়া দখল নিয়ে আরেকটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার শুনানি এ বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা।