

একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট, পুকুরপাড় কিংবা বাড়ির আঙিনায় সহজেই চোখে পড়ত ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ ভেন্না গাছ। সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিক চিকিৎসার প্রসারে আজ সেই ভেন্না গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতি থেকে। অথচ প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের নানা রোগব্যাধির ঘরোয়া চিকিৎসায় এই গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে।
ভেন্না গাছ, যা রেড়ী গাছ নামেও পরিচিত (বৈজ্ঞানিক নাম Ricinus communis), মূলত ক্যাস্টর অয়েলের জন্য পরিচিত হলেও এর পাতা, বীজ ও তেল বহুকাল ধরে আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভেন্না পাতায় থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও ব্যথানাশক উপাদান শরীরের প্রদাহ, বাত-ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সহায়ক।
লোকজ চিকিৎসায় ভেন্না পাতা ব্যবহার করা হতো ক্ষত সারানো, চুল পড়া রোধ, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা, বাত-ব্যথা, ত্বকের ঘা ও ফোঁড়ার চিকিৎসায়। রাতকানা রোগে ভেন্না পাতা রান্না করে খাওয়ার প্রচলন ছিল। নারীদের তলপেটের ব্যথায় গরম পাতা সেঁক দেওয়া হতো। আবার খোস-পাঁচড়া বা চুলকানিতে ভেন্নার ছাল ও হলুদের মিশ্রণ কার্যকর বলে পরিচিত।
আয়ুর্বেদ মতে, ভেন্না বীজ থেকে তৈরি তেল বিষফোঁড়া পাকাতে, সায়াটিক বাত ও পোড়া ক্ষতে ব্যবহারে উপকারী। তবে বীজ অত্যন্ত বিষাক্ত হওয়ায় কাঁচা বীজ বা অপরিশোধিত তেল খাওয়া মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য ভেন্নার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার অবশ্যই অভিজ্ঞ ভেষজ চিকিৎসকের পরামর্শে করা প্রয়োজন। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ভেন্না পাতার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রকৃতির এই মূল্যবান ভেষজ উদ্ভিদটি আজ বিলুপ্তির পথে। সঠিক জ্ঞান ও সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে ভেন্না গাছের মতো ঐতিহ্যবাহী ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা গেলে তা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নওগাঁর মান্দায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ ধান ও চাল সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের আয়োজনে প্রসাদপুর খাদ্য গুদাম চত্বরে ফিতা কেটে সংগ্রহের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা.সাবরিন মোস্তরী সভাপতিত্বে এবং খাদ্য গুদামের পরিদর্শক ইমরান হোসেনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন, খাদ্য গুদামের অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা, মিল মালিক সামসুল আলম প্রমুখ।
উপজেলা খাদ্য গুদামের পরিদর্শক ইমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে মান্দায় আমন ধান সংগ্রহের প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৪ মেট্রিকটন, চালের লক্ষ্যমাত্রা ১১৭ মেট্রিকটন। ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজি প্রতি ৩৪ টাকা, চাল ৫০ টাকা।
হাবিব আমজাদ, মান্দা, নওগাঁ

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী ব্যুরো
“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” এই প্রবাদ শুধু পুস্তকে সম্নান পাচ্ছে, প্রকৃত অর্থে তার বাস্তবায়ন নেই। ডিলার সিন্ডিকেটে ঊর্ধ্বমুল্যে দিয়ে সার ক্রয় করছে কৃষক। আদি কৃষকরা তাদের কৃষি কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছে। প্রশাসন ও কৃষি দপ্তর অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
জীবন জীবিকার জন্য খাদ্য অন্যতম। কিন্ত এই খাদ্য নিয়ে চলছে না না কৌশলের জটিলতা। কৃষি জমির পরিমান কমার সাথে সাথে কৃষকরাও তাদের পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। নতুন পেশার সন্ধানে খাদ্য উৎপাদন সংকটে ভুগতে হবে মানুষের। কৃষি না বাঁচলে ভবিষ্যৎ কোন এক সময় দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল নাও থকাতে পারে বলে ধারনা করছেন বিভিন্ন পেশা জীবির মানুষ।
সরকারী বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দের কোন কমতি থাকেনা। তবে প্রতি বছর কৃষকের বরাদ্দ প্রতিনিয়ত সংকুচিত হয়ে আসছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে সরকারী প্রণোদনার ধান,গম,ভুট্রা, সরিষাসহ বিভিন্ন প্রকারের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ করেন কৃষি দপ্তর। তবে প্রণোদনা গুলো সঠিক বন্টনেও থাকে অনেক অনিয়ম। প্রকৃত কৃষক কিছু অংশ পেলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে বঞ্চিত হচ্ছে সিংহ ভাগ কৃষক।
কৃষি প্রণোদনা এবং সরকারী নির্ধারিত মূল্যে সার ক্রয় বিষয়ে জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাহাজপুর গ্রামের কৃষক আলমগির, মাড়িয়ার রাজিব, মোহনপুর উপজেলার হাজরাপাড়া গ্রামের আইনাল হক এবং মোহনপুরের শহিদুল, চারঘাটের আকবর আলী সরকার, বাঘার পাকুড়িয়ার শফিকুল ইসলাম সানাসহ পবা, তানোর, গোদাগাড়ীর বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা বলেন, তারা কৃষি দপ্তর থেকে সরাকারী প্রণোদনা পাচ্ছেন। তবে তার পরিমান খুবই সামান্য। বেশিরভাগ সময় প্রান্তিক কৃষকরা ওই সকল প্রণোদনা থেকে কঞ্চিত হচ্ছে। অনেক পূর্ব থেকেই কৃষকরা রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার। তাদের প্রভাব বিস্তার করার লক্ষে সরকারী বরাদ্দ সঠিক ভাবে বন্টন করতে পারছে না কৃষি দপ্তর। অপরদিকে সারের ঊর্ধ্বগতি মূল্যেও কারনে চাষাবাদ ব্যহত হচ্ছে।
চারঘাটের কৃষক প্রতিনিধি আকবর সরকার বলেন, তিনি প্রায় ১শত বিঘা জমি চাষাবাদ করেন। তার নিজের প্রাপ্তির জন্য কোন প্রণোদনার প্রয়োজন নেই। তবে সরকারী বরাদ্দ গুলো সঠিক বন্টনে অনিয়ম রয়েছে। অপরদিকে সরকারী নির্ধারিত সারের মূল্যেও ঊর্ধ্বমুখী। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি বস্তা প্রতি ৫শত থেকে ৮শত টাকা বেশি মূল্যে দিয়ে কৃষক সার ক্রয় করছেন। সার ও কীট নাশকের বাজার নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। কিন্ত কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
চারঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন হাসান বলেন, সার সিন্ডিকেট প্রতিরোধ করতে তারা কাজ করছেন। প্রায় সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে তারা অভিযার পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনিও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। একইভাবে জেলার ৯টি উপজেলার কৃষি দপ্তর কাজ করছেন।
রাজশাহী অতিরিক্ত কৃষিবিদ অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ প্রতিনিধিকে বলেন, এই জেলায় মোট আবাদি জমি আছে ১লক্ষ ৮৫ হাজার ২শত ৬২ হেক্টর। বর্তমান কৃষক আছেন ৪রলক্ষ ১২ হাজার। বাংলাদেশ ক্যামিকাল ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন (বিসিআইসি) অনুমোদন ডিলার রয়েছ ৮৯জন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) অনুমোদিত ডিলার আছে ১শত ৩১জন । প্রত্যেক ডিলারকে সরকারী নির্ধারিত মুল্যে ইউরিয়া প্রতি বস্তা ১৩৫০টাকা, টিএসপি ১৩৫০ টাকা, ডিএপি ১০৫০টাকা এবং এমওপি প্রতি বস্তা ১হাজার টাকা দরে বিক্রয় করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। কৃষকদের অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বমূল্যে সার বিক্রয় ডিলাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।