

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক/সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার চারটি ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ আইডি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে লগইন করে ফল জানতে পারবেন। মেধা তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীদের আগামী ১ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে ডিসিপ্লিন পছন্দক্রম জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পছন্দক্রম পূরণ না করলে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে হবে। ডিসিপ্লিনভিত্তিক চূড়ান্ত ফল আগামী ৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভর্তি কার্যক্রম ১২ ও ১৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ফল প্রকাশের আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় ইউনিটপ্রধানরা ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১৮ ডিসেম্বর এবং ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হয় ১৯ ডিসেম্বর।

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে সরকারি কলেজে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি শুরুর সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে নির্ধারিত ৩০ ডিসেম্বরের বদলে এখন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে ১০ জানুয়ারি থেকে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনিবার্য কারণেই এই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অফিস সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। এর আগে ভর্তি চলার কথা ছিল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও ফলাফল, এসএসসি-এইচএসসির মূল সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট, এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড, প্রশংসাপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা সনদ জমা দিতে হবে।
গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা মেধাতালিকা অনুযায়ী, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার ৪১ জন এবং সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটে ৫৪০ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে কলেজ পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিধিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ তিনবার মাইগ্রেশনের সুযোগ পাবেন।

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় দেশসেরা হয়েছেন নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার সন্তান জাহাঙ্গীর আলম শান্ত। সরকারি বিজ্ঞান কলেজের এই শিক্ষার্থী ৯১ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে জাতীয় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল রোববার (১৪ ডিসেম্বর) প্রকাশ করা হয়। এ বছর মোট পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় শান্ত তার সাফল্যের জন্য সবার আগে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরিবারকে আনন্দ দিতে পারাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শান্তর শিক্ষাজীবনের শুরু নরসিংদীর বারৈচা রেসিডেন্সিয়াল মডেল হাই স্কুলে। এসএসসি শেষে তিনি ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হন। শুরুতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা থাকলেও পরে মেডিকেলের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেন।
প্রস্তুতির সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার প্রায় বন্ধ রাখেন শান্ত। পড়াশোনার জন্য সকালবেলাকেই সবচেয়ে কার্যকর সময় হিসেবে বেছে নেন তিনি। ভর্তি প্রস্তুতির মাঝেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন পড়াশোনা বন্ধ থাকলেও মানসিক দৃঢ়তায় তিনি আবার ঘুরে দাঁড়ান।
পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর দেন শান্ত। ফল প্রকাশের পর তার ধারণাও সঠিক প্রমাণিত হয়। এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবার দোয়া, বন্ধুদের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ভবিষ্যতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বা অনকোলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শান্ত। পাশাপাশি জুনিয়রদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন এইচএসসি পর্যায় থেকেই একাডেমিক প্রস্তুতি শক্তভাবে গড়ে তুলতে এবং সব কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে।

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে কর্তৃপক্ষ ফলাফল ঘোষণা করে। এবার পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, যা মোটের প্রায় ৯৮ শতাংশ। অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং অনিয়মের অভিযোগে দুজনকে পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এবার উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা আগের বছরগুলোর প্রবণতার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।
ফলাফল জানতে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে মেধাতালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের বছরের তুলনায় এবার ফলাফলে বড় কোনো পরিবর্তন নেই এবং নারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য আবারও এগিয়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.dgme.gov.bd), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (www.dghs.gov.bd) এবংhttps://result.dghs.gov.bd/ লিংকে ফলাফল পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটে ‘MBBS Result 2025-2026’ অপশনে গিয়ে রোল নম্বর দিলেই কাঙ্ক্ষিত ফল দেখা যাবে।

৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন ও প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর দাবিতে টানা আন্দোলনের পর অবশেষে পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা জানান, প্রস্তুতির ঘাটতি, পুরোনো ও নতুন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বৈষম্য এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা–নির্যাতনের অভিযোগ উপেক্ষিত হওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতির সময় অত্যন্ত কম, ফলে তারা বাস্তবিকভাবেই পরীক্ষায় বসার সক্ষমতা হারিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পিএসসি মানবিক দিক বিবেচনায় পরীক্ষার সময় পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বানকে গুরুত্ব না দিয়ে একতরফাভাবে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী সাইফ মুরাদ বলেন, গত এক মাস ধরে পিএসসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার সমস্যার সমাধান চেয়েও কোনো সাড়া পাননি শিক্ষার্থীরা। বরং আন্দোলনের শেষ দিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে গিয়ে হামলা–নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি জানান, অন্তত ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন—কেউ কেউ মাথায় একাধিক সেলাই নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পুরোনো পরীক্ষার্থীরা তিন মাস আগেই আরেকটি লিখিত পরীক্ষা দিয়ে প্রস্তুত থাকতে পারেন; কিন্তু নতুন পরীক্ষার্থীদের পক্ষে এত অল্প সময়ে সমান প্রতিযোগিতা করা অসম্ভব। এই বৈষম্য দূর করতেই তারা সময় বাড়ানোর দাবি তুলেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত উপেক্ষিত হয়।
সাইফ মুরাদ জানান, পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে কম উপস্থিতি হলে পরে পুনরায় পরীক্ষার দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) আগের সিদ্ধান্তেই অনড়—তাদের ঘোষণা অনুযায়ী ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা আগামীকাল ২৭ নভেম্বর থেকেই শুরু হবে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আটটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কিছু পদ–সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা শুধুমাত্র ঢাকায় নেওয়া হবে

বারবার ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও চার দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) জরুরি বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়—সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়তে হবে এবং আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
উপাচার্য ড. রেজাউল করিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনগুলোর পরিদর্শন প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস চলবে।
এর আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল খালি করতে নির্দেশ দেয়।

দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সের আসন সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ২৮০টি আসন কমিয়ে ৩৭টি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০০-তে। এর আগে মোট আসন ছিল ৫ হাজার ৩৮০টি।
সোমবার (১০ নভেম্বর) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা–১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের প্রতিটির ২৫টি করে আসন কমানো হয়েছে। আগে এসব প্রতিষ্ঠানে ২৫০টি করে আসন থাকলেও এখন তা ২২৫-এ নেমে এসেছে।
এ ছাড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের আসন ২৩০ থেকে কমে ২২৫ করা হয়েছে। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৫০টি এবং নেত্রকোনা, নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ২৫টি করে আসন কমিয়ে প্রত্যেকটিতে ৫০টি করে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ২৫টি করে নতুন আসন বাড়ানো হয়েছে।
নতুন এই আসন বিন্যাসের ফলে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করতে পারবে হাইকোর্টের এক রায়ে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কেবল সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে সোমবার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
রায়ের ফলে বেসরকারি স্কুল, রেজিস্টার্ড কিন্ডারগার্টেন, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
২০০৮ সালের বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুসারে পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ জানান, ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা স্মারক অনুযায়ী শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৪২ জন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ রিট করেন।
চূড়ান্ত শুনানির পর আদালত সেই স্মারক বাতিল করে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা উন্মুক্ত করে দেয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। তবে আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টরসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ও প্রস্তাব পর্যালোচনার পর প্রশাসন অবশেষে ফি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য জানিয়েছেন, ফি কমানোর বিষয়টি এখন নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে। ঘোষণার আগে কলেজ অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, যেহেতু চলমান পরীক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অনলাইনে ফি পরিশোধ সম্পন্ন করেছেন, তাই নতুন সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। ফি হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে অনার্স চতুর্থ বর্ষ, পাস কোর্স দ্বিতীয় বর্ষ এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলো থেকে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ অনেকটা কমাবে এবং তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের পূর্ব পাশের লিফটটি শিক্ষার্থীদের কাছে এখন যেন এক ‘মৃত্যুকূপ’। দীর্ঘদিন ধরে লিফটটি বিকল অবস্থায় থাকলেও প্রশাসনের উদাসীনতায় সমস্যার সমাধান হয়নি। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) আবারও লিফটটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার সময় ভেতরে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী ছিলেন। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি, তবে তারা ভীষণ ভীত হয়ে পড়েন। এর আগেও একাধিকবার লিফটের ত্রুটিতে শিক্ষার্থীরা আটকে পড়েছেন, এমনকি এক নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
এ বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “লিফটটি স্থাপনে অনেক অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবুও এর পুনরাবৃত্ত সমস্যায় আমরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আকাশ শাহ বলেন, “এই লিফট নিয়ে আমরা ডিন, প্রক্টর, এমনকি ভিসির কাছেও গিয়েছি। কিন্তু সামান্য মেরামতের পর আবার আগের মতো চালু করা হয়েছে। প্রশাসন সব সময় দেরিতে সাড়া দেয় মনে হয়, কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে তাদের টনক নড়ে না।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই লিফট বিকল হয়। ভয় নিয়ে উঠতে হয়। এখন একটি নতুন লিফট স্থাপন করা ছাড়া বিকল্প নেই। যদি এভাবে অবহেলা চলতে থাকে, বড় দুর্ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায় এড়াতে পারবে না।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাবির মতো দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ লিফট চালু থাকা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতারই পরিচয়। তারা দ্রুত লিফট পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।