
৭ মাস আগে
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে তিনি আনন্দমুখর ও উৎসবের পরিবেশে দেখতে চান। বিশেষ করে যারা এর আগে কখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি বা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অপ্রিয় অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য এবারের নির্বাচন যেন হয় একটি ইতিবাচক ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তার ভাষায়, “কেউ যেন এ অভিযোগ করতে না পারে যে, তাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে সাতটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে গঠনমূলক পরামর্শ প্রত্যাশা করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, কিছু শক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচন পর্যন্ত টিকতে দিতে চাইবে না। তারা নানা কৌশলে বাঁধা সৃষ্টি করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। এমনকি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে কিংবা ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে নানা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এসব সংকেত আমরা ইতিমধ্যে পাচ্ছি, সামনে আরও দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের লক্ষ্য হবে যেকোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচন আয়োজন করা এবং তা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সম্পন্ন করা।”

৭ মাস আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভবিষ্যৎ এখন নির্ধারিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।
আজ বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এক আদেশে জানান, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া নির্বাচন স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে না। এর ফলে,আপাতত ডাকসু নির্বাচন আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে কোনো আইনগত বাধা থাকছে না। ঘটনাপ্রবাহের পেছনের পটভূমি ১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গণি-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে ডাকসু নির্বাচন আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন।তবে, এই রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল করে। একইদিন বিকেলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনটিকে সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন (সিএমপি) হিসেবে গ্রহণ করেছে। এখন পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগ পর্যন্ত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রচারণা,ক্যাম্পেইন ও অন্যান্য প্রস্তুতি চালাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে আর কোনো আইনি বাধা নেই। নির্বাচন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। এটি হবে স্বাধীনতার পর মাত্র অষ্টম নির্বাচন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৩৭ বার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, তবে ১৯৭১ সালের পর মাত্র সাতবার। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে, যা ছিল দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। গণতন্ত্র ও নেতৃত্বের পাঠশালা ডাকসু শুধু একটি নির্বাচনই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্ব গঠনের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।তবে এই নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে, যা এর ধারাবাহিকতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজকের শুনানির গুরুত্ব আজকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানি শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং ঢাবির গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক অধিকার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতে পারে।

৭ মাস আগে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচন বানচালের জন্য অদৃশ্য শক্তি নানাভাবে চক্রান্ত করছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মানিকনগরে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এজন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন পক্ষের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার উদ্যোগ নেবে।
সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশে খাল কেটে আওয়ামী লীগ নামে একটি কুমির আনা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খাল কেটে কুমির নয়, বরং স্বচ্ছ পানির প্রবাহ আনবে।”