বাবরি মসজিদে দেয়ার জন্য মাথায় ইট নিয়ে হাঁটছেন ১৬৫ কিমি পথ

ইসলামিক | Siam Islam
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পরিযায়ী শ্রমিক জিমিদার মন্ডল গুজরাটে কাজ করলেও বাবরি মসজিদ নির্মাণের খবর শুনে সব ফেলে নিজ গ্রামের পথে রওনা হন। উদ্দেশ্য—নিজ মাথায় করে চারটি ইট পৌঁছে দেওয়া মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নির্মাণস্থলে। এনায়েতপুর গ্রামের এই শ্রমিক বুধবার ভোরে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ১৬৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। কুয়াশা ভেদ করে দুই ভাইয়ের পথচলা—জিমিদারের মতে, ২৪–৩০ ঘণ্টার মধ্যেই তারা পৌঁছে যাবেন। তার ভাষায়, “মসজিদের দরজায় এই ইট পৌঁছাতে পারলেই মনে হবে মানুষের জন্য কিছু করতে পেরেছি।”
আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরুর কথা রয়েছে। সাধারণ মানুষের অনুদান, অর্থ ও নির্মাণ সামগ্রীর পাশাপাশি বহু খেটে-খাওয়া মানুষ মাথায় ইট বহন করে বেলডাঙায় হাজির হচ্ছেন। বিত্তবানদের দানের ভিড়ে সাধারণ শ্রমিকের এই শ্রম–ভেজা ইটও ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।
এর আগে ৬ ডিসেম্বর, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনেই মুর্শিদাবাদে একই নামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি ঘোষণা করেন—বাবরি মসজিদ নির্মাণ ঠেকিয়ে কেউ পারবে না; প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তিনি লড়বেন।
হুমায়ুন কবির জানান, আদালত তার কাজকে অসাংবিধানিক বলেনি। বিজেপি পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মুর্শিদাবাদে রামমন্দির নির্মাণের ঘোষণা করলেও তিনি বাধা দেননি। তার বক্তব্য—ভারতের সংবিধান সবার ধর্ম পালনের অধিকার দেয়। তবে বাবরি মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার হুমকির জবাবে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠী জীবন দিয়ে হলেও মসজিদ রক্ষা করবে।
তিনি আরও জানান, শুধু মসজিদ নয়—এর সঙ্গে হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, রেস্টুরেন্ট, পার্কসহ বড় পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এ অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে।










