

পবিত্র ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও সেবায় ঘাটতির কারণে প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে এক হাজার ৮০০টির সঙ্গে করা চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি আরব সরকার। রোববার এ তথ্য জানায় দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নে এসব এজেন্সির কার্যক্রম ও সেবার মানে দুর্বলতা ধরা পড়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ত্রুটি সংশোধনের জন্য ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলে চুক্তি পুনরায় কার্যকর করা হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট করেছে, যেসব ওমরাহ যাত্রীর বৈধ ভিসা ও পূর্বনির্ধারিত বুকিং রয়েছে, তাদের সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘাসসান আলনওয়াইমি জানান, ওমরাহ খাতের স্বচ্ছতা ও যাত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হুগলি জেলার দাদপুর থানার পুইনান গ্রামে আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এলাকাটি পরিণত হয়েছে শান্তি ও সম্প্রীতির মহামিলনস্থলে।
তাবলিগ জামাতের ব্যবস্থাপনায় ২ জানুয়ারি শুরু হওয়া ইজতেমা চলবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ এবং ভারতের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণে প্রায় ৯ হাজার বিঘা জমির ইজতেমা ময়দান ইতোমধ্যে জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। আয়োজকদের হিসাবে, প্রথম দিনেই ১৮ থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন এবং শনিবার পর্যন্ত মোট উপস্থিতি প্রায় ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে।
ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, শীত উপেক্ষা করে এই ঐতিহাসিক সমাবেশে অংশ নিতে পারা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, সব ধর্মের মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দোয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে। দ্বিতীয় দিন ইজতেমা ময়দান পরিদর্শনে গিয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পারেন।
৪ জানুয়ারি পর্যন্ত হযরতজি মাওলানা সাদসহ শীর্ষ আলেমরা বয়ান দেবেন। ৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় এই বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটবে। আয়োজকদের ধারণা, শেষ দিনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, দেশে ইসলামী শিক্ষা প্রসারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ড. খালিদ হোসেন জানান, ইমাম, আলেম ও মেধাবী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ চালু করা হবে। পাশাপাশি বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ, মনির হায়দারসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

হিজরি সনের সপ্তম মাস ও ইসলামের পবিত্র চার মাসের অন্যতম রজবের চাঁদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেখা গেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে রোববার (২১ ডিসেম্বর) থেকে রজব মাস শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে রজব মাসের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ এই মাসের মধ্য দিয়েই পবিত্র রমজানের প্রস্তুতির সময়কাল শুরু হয়। রজবের পর শাবান এবং তার পরই আসে সিয়াম সাধনার মাস রমজান—ফলে রজবের সূচনা মানেই রোজার প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা।
ধর্মীয় হিসাব অনুযায়ী রজব ও শাবান মাস ২৯ বা ৩০ দিনে পূর্ণ হলে আনুমানিক দুই মাসের মধ্যেই রমজান শুরু হতে পারে। তবে রমজান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর।
এদিকে, আবুধাবির আল-খাতিম জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে রজবের চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চাঁদের ছবি ধারণ করা সম্ভব হয়। এ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে ওসামা ঘান্নাম, আনাস মোহাম্মদ, খালাফান আল নাইমি ও মোহাম্মদ আওদাসহ চার সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে শেষ বিদায় জানাতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল নামে।
দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা শোকের আবহে পরিণত হয়। নামাজে ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
জানাজাকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সৃষ্টি হয় বিশাল জনসমাগম। শোকাহত মানুষের চোখে ছিল অশ্রু আর কণ্ঠে ছিল প্রিয় নেতাকে হারানোর বেদনা। এদিকে শহীদ হাদিকে ‘দ্রোহের প্রতীক’ আখ্যা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।
তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, রাজকীয় বিদায়ের মধ্য দিয়ে ওসমান হাদি মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দৃপ্ত কণ্ঠ হিসেবে তিনি অল্প সময়েই গণমানুষের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছিলেন।
আজহারী আরও উল্লেখ করেন, এক জুমার পর গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে পরের জুমার রাতেই শাহাদাত এই যাত্রা কোটি মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় ভাস্বর। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, ওসমান হাদি প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে থাকবেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে। দেশটির অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাসের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রমজান শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। আর ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে ২০ মার্চ, শুক্রবার।
আমিরাতের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, রমজান ৩০ দিনে পূর্ণ হলে ঈদের আগের দিনটিও ছুটির অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে এমন হলে ১৯ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত টানা চার দিনের সরকারি ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালে ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্টের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আরাফাত দিবস পড়তে পারে ২৬ মে (মঙ্গলবার) এবং ঈদুল আযহা শুরু হতে পারে ২৭ মে (বুধবার)। সরকারি ছুটি চলতে পারে ২৯ মে পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে টানা ছয় দিনের অবকাশ মিলতে পারে।
তবে অন্যান্য ইসলামি উৎসবের মতোই, আমিরাতে রমজান ও ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে সরকারি চাঁদ দেখার ঘোষণার ভিত্তিতে। সময় ঘনিয়ে এলে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ও উৎসবের দিনক্ষণ নিশ্চিত করবে।

হজরত দাউদ (আ.) ছিলেন একাধারে আল্লাহর নবী, ন্যায়পরায়ণ শাসক ও পরিশ্রমী মানুষ। আল্লাহ তায়ালা তাকে নবুয়ত দান করার পাশাপাশি পবিত্র কিতাব জাবুর প্রদান করেন এবং বিশেষ কিছু গুণে ভূষিত করেন, যা তাকে ইতিহাসে অনন্য করে তুলেছে। তিনি সুমধুর কণ্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন।
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, দাউদ (আ.) আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হলে মানুষ, পাখি এমনকি প্রকৃতিও যেন তার সঙ্গে তাসবিহ পাঠে অংশ নিত। এই অসাধারণ কণ্ঠের প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে আজও অনেক সংস্কৃতিতে সুন্দর কণ্ঠস্বরকে ‘দাউদি সুর’ বলা হয়।
আধ্যাত্মিক গুণের পাশাপাশি দাউদ (আ.) ছিলেন বাস্তব জীবনে দক্ষ এক কর্মী। আল্লাহ তায়ালা তাকে লোহা নরম করার বিশেষ ক্ষমতা দেন। এর মাধ্যমে তিনি বর্ম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরি করতেন, যা তার সম্প্রদায়কে শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিত। এভাবেই তিনি ধাতুশিল্পের একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত হন।
তিনি দিনের বেলায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন এবং রাতে নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শ্রমের মাধ্যমে উপার্জনের এই দৃষ্টান্ত ইসলামে আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে।
কোরআনে বর্ণিত নবী দাউদ (আ.)-এর জীবন নেতৃত্ব, ইবাদত ও পরিশ্রমের এক অনন্য সমন্বয়। তার জীবনী প্রমাণ করে, দায়িত্বশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ প্রকৃত মর্যাদা অর্জন করতে পারে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পরিযায়ী শ্রমিক জিমিদার মন্ডল গুজরাটে কাজ করলেও বাবরি মসজিদ নির্মাণের খবর শুনে সব ফেলে নিজ গ্রামের পথে রওনা হন। উদ্দেশ্য—নিজ মাথায় করে চারটি ইট পৌঁছে দেওয়া মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নির্মাণস্থলে। এনায়েতপুর গ্রামের এই শ্রমিক বুধবার ভোরে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ১৬৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। কুয়াশা ভেদ করে দুই ভাইয়ের পথচলা—জিমিদারের মতে, ২৪–৩০ ঘণ্টার মধ্যেই তারা পৌঁছে যাবেন। তার ভাষায়, “মসজিদের দরজায় এই ইট পৌঁছাতে পারলেই মনে হবে মানুষের জন্য কিছু করতে পেরেছি।”
আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাবরি মসজিদের নির্মাণকাজ শুরুর কথা রয়েছে। সাধারণ মানুষের অনুদান, অর্থ ও নির্মাণ সামগ্রীর পাশাপাশি বহু খেটে-খাওয়া মানুষ মাথায় ইট বহন করে বেলডাঙায় হাজির হচ্ছেন। বিত্তবানদের দানের ভিড়ে সাধারণ শ্রমিকের এই শ্রম–ভেজা ইটও ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।
এর আগে ৬ ডিসেম্বর, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনেই মুর্শিদাবাদে একই নামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি ঘোষণা করেন—বাবরি মসজিদ নির্মাণ ঠেকিয়ে কেউ পারবে না; প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তিনি লড়বেন।
হুমায়ুন কবির জানান, আদালত তার কাজকে অসাংবিধানিক বলেনি। বিজেপি পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মুর্শিদাবাদে রামমন্দির নির্মাণের ঘোষণা করলেও তিনি বাধা দেননি। তার বক্তব্য—ভারতের সংবিধান সবার ধর্ম পালনের অধিকার দেয়। তবে বাবরি মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার হুমকির জবাবে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠী জীবন দিয়ে হলেও মসজিদ রক্ষা করবে।
তিনি আরও জানান, শুধু মসজিদ নয়—এর সঙ্গে হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, রেস্টুরেন্ট, পার্কসহ বড় পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এ অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে।

তাহরীক মুসলিম শাব্বান সভাপতি মুশতাক মালিক জানিয়েছেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে হায়দরাবাদে একটি বাবরি স্মারক নির্মাণ এবং তার সঙ্গে যুক্ত জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঠিক কীভাবে ও কোন সময়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে—তা শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
পশ্চিমবঙ্গে স্থগিত টিএমসি বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বাবরি-ধাঁচের স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই হায়দরাবাদের এই পরিকল্পনা উঠে আসে।
সভায় মুশতাক মালিক বলেন, ১৯৯২ সালে যেভাবে হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল—তার স্মৃতি ধরে রাখতে এই স্মারক নির্মাণ হবে। বাবরকে ঘিরে উঠে আসা রাজনৈতিক বিতর্ককে তিনি ভিত্তিহীন আখ্যা দেন। তার দাবি, বাবরি মসজিদ নির্মাণে বাবরের অর্থায়নের প্রমাণ নেই এবং মুঘল আমলে ধর্মীয় সহাবস্থানের বহু উদাহরণ পাওয়া যায়।
এদিকে একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীর যে বাবরি-ধাঁচের কাঠামোর কাজ শুরু করেছেন, তা নিয়ে বিজেপি তীব্র সমালোচনা করেছে। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ বলেন, বাবরের নামে ভারত কোনো স্মারক মেনে নেবে না এবং তিনি বাবরকে ‘অত্যাচারী’ বলেও মন্তব্য করেন।
হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তিনি সংবিধানসম্মত অধিকার অনুযায়ীই একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে মসজিদের পাশাপাশি হাসপাতাল, অতিথিশালা ও সভাকক্ষও থাকবে বলে জানান তিনি।

সৌদি আরবের ভেতর ও বাইরে থেকে আগত মুসলমানরা চলতি ১৪৪৭ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে মোট ১ কোটি ৩৯ লাখেরও বেশি বার ওমরাহ আদায় করেছেন। এর আগের মাস, রবিউস সানিতে, ওমরাহ পালন হয়েছিল ১ কোটি ১৭ লাখেরও বেশি।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, হারামাইন বিষয়ক জেনারেল অথরিটির সহযোগিতায় সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, এক মাসে ১৭ লাখেরও বেশি বিদেশি ওমরাহযাত্রী সৌদিতে পৌঁছেছেন। উন্নত ডিজিটাল সেবা, সমন্বিত লজিস্টিক সহায়তা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার কারণে ওমরাহ পালনের সব প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আরও সহজ হয়েছে।
ওমরাহযাত্রীদের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সৌদি সরকারের হজ, ওমরাহ ও জিয়ারত ব্যবস্থাপনায় চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সফলতারই প্রমাণ। পবিত্র দুই মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সহজ করতে নেওয়া উদ্যোগ ইতোমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে বলে পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে।