

বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে রাখার আইসিসির সিদ্ধান্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। শুরু থেকেই বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করে আসা পাকিস্তান এবার আরও কড়া অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বর্জনের কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও জিও সুপার জানিয়েছে, পুরো টুর্নামেন্ট নয়—শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার বিকল্প নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে।
সূচি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা। পাকিস্তান তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। পিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, প্রতিবাদের নানা কৌশল বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পুরো বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনার বাইরে নয়।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের মাধ্যমে আইসিসির ওপর আর্থিক ও সাংগঠনিক চাপ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য। এতে দুই পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা থাকলেও সিদ্ধান্তে অটল থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার (২২ জানুয়ারি) পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে—পাকিস্তান পুরো বিশ্বকাপে অংশ নেবে, নাকি শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। এদিকে, পাকিস্তান ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের জন্য তাদের দল ঘোষণা করেছে।

পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বিকল্প পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে, বিকল্প দল হিসেবে বাংলাদেশকে ফের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সে কারণেই বাংলাদেশকে আপাতত ‘স্ট্যান্ডবাই’ তালিকায় রাখা হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তান পুরো টুর্নামেন্ট বর্জন করার সম্ভাবনা কম। কারণ, তারা জানে—পাকিস্তান সরে গেলে আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে গ্রুপ ‘এ’-তে অন্তর্ভুক্ত করে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন করা হবে, যা লজিস্টিক দিক থেকেও তুলনামূলক সহজ।
সূত্রটি আরও জানায়, এই ব্যবস্থায় আইসিসিকে বাংলাদেশের আগের নিরাপত্তা উদ্বেগ সংক্রান্ত অবস্থান আলাদাভাবে মেনে নিতে হবে না। বরং এটি পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর ফল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই টুর্নামেন্ট ঘিরে অনিশ্চয়তা চলছে।
এখন সব নজর পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের দিকে। তারা সরে দাঁড়ালে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে—এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে মাঠে নামতে আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন এই তারকা ব্যাটার। তার আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স কর্তৃপক্ষ।
এর আগে দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কোয়ালিফায়ার–১ এর পরপরই উইলিয়ামসন দলে যোগ দেবেন। শান্তর সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আজ সকাল প্রায় ১০টার দিকে ঢাকায় এসে নামেন তিনি।
রাজশাহী কর্তৃপক্ষ বেশ কিছুদিন ধরেই উইলিয়ামসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। পরিকল্পনা ছিল কোয়ালিফায়ার–১ এর আগেই তাকে দলে নেওয়ার, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগে ব্যস্ত থাকায় তা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ডারবান সুপার জায়ান্টসের হয়ে এসএ২০ লিগ শেষ করেন উইলিয়ামসন, এরপরই বিপিএলের জন্য সময় বের করতে পেরেছেন।
এসএ২০ আসরে তার পারফরম্যান্স খুব একটা চোখে পড়ার মতো ছিল না। প্রথম ম্যাচে ৪০ রান করলেও পরের ম্যাচগুলোতে তার ব্যাট তেমন কথা বলেনি। এবার রাজশাহীর জার্সিতে সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য থাকবে তার।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার দিয়েই বিপিএলে অভিষেক হতে যাচ্ছে উইলিয়ামসনের। আজ সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে পারলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স জায়গা করে নেবে ফাইনালে। বিপিএলের চলতি আসরে সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে কেন উইলিয়ামসনের নামই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

ভিসা জটিলতার কারণে ভারতীয় আইসিসি প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় আসতে না পারলেও অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও ভেন্যু ইস্যু ঘিরেই মূল আলোচনা হয়।
বিসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতে খেলতে আগ্রহী নয়। তবে বৈঠকে বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশকে এমন একটি গ্রুপে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবির মতে, এতে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক জটিলতা কমবে।
আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের অন্তর্বর্তী মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সরাসরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ভিসা বিলম্বের কারণে আইসিসির ইভেন্টস ও করপোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা ভার্চুয়ালি সভায় যোগ দেন।
বৈঠক শেষে বিসিবি জানায়, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে আবারও অনুরোধ জানিয়েছে—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য। একই সঙ্গে দল, সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনাকে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক বলে উল্লেখ করে বিসিবি জানায়, বিষয়টি নিয়ে সংলাপ অব্যাহত থাকবে।
বিসিবির পক্ষে সভায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। আইসিসিও আশাবাদী, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদের জন্য চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। হাঁটুর চোটের কারণে তিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের সর্বশেষ ম্যাচে খেলতে পারেননি এবং টুর্নামেন্টের বাকি অংশেও তার অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচে তাসকিনকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ফিজিওর পরামর্শে আপাতত তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। হাঁটুর সমস্যার কারণে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাসকিনকে ঢাকায় স্ক্যান করাতে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জানান, চোটটি গুরুতর নয় এবং আগেও একই ধরনের সমস্যার চিকিৎসা করা হয়েছে। স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
তবে সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকায় বিষয়টি বাড়তি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চোট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়েও সংশয় তৈরি হতে পারে।
এই বিপিএলে পাঁচ ম্যাচে তিন উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন, যদিও রান খরচ কিছুটা বেশি ছিল। তার মাঠে ফেরার সময় এখনো নিশ্চিত নয়। বিসিবি ও সংশ্লিষ্টরা রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে তার ফেরার আশাই করছেন সবাই।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভিসা জটিলতায়। ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে একাধিক অংশগ্রহণকারী দেশের ক্রিকেটাররা এখনো ভারতীয় ভিসা পাননি। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ভিসা নিয়ে সমস্যা বেশি দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইতালি ও কানাডার ক্রিকেট বোর্ডগুলো জানিয়েছে, তাদের দলে থাকা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা চলছে। বিষয়টি জানিয়ে তারা আগেই আইসিসি ও বিসিসিআইকে চিঠি দিলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬। হাতে সময় কম থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি বোর্ড একযোগে আবারও আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভিসা সংকটের পেছনে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতিই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের মার্চে পেহেলগামে হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও কঠোর হয়, যার প্রভাব পড়েছে ভিসা প্রক্রিয়ায়। তবে পাকিস্তান দল এই বিষয়ে তুলনামূলক স্বস্তিতে আছে। হাইব্রিড মডেল অনুযায়ী তারা বিশ্বকাপে নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব শেষে সুপার এইট, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ভারতে ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছা জানানোয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সূচি নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠির পরই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যের বরাতে এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসসহ একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর নেতৃত্বে টুর্নামেন্টের সূচি পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের সম্পর্কের অবনতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে, যা অনেকটা ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপোড়েনের মতো রূপ নিয়েছে।
দুই বোর্ডের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার সূচনা হয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। আইপিএলের নিলামে বড় অঙ্কে দলে ভেড়ানো হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর তাকে ছাড়তে বাধ্য হয়।
রোববার বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ায় তারা আইসিসিকে অনুরোধ করেছে, যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আর মাত্র এক মাস বাকি থাকায় নতুন সূচি তৈরি করা আয়োজকদের জন্য বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার আটটি ভেন্যুতে ২০ দলের এই বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বিসিবি টুর্নামেন্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে।

আসন্ন বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভারত ও স্রিলাঙ্কার মাটিতে। কিন্তু ভারতে খেলতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালককে নিয়ে হওয়া সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবং জরুরি চিঠির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড।
বিসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে মূলত খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে সফরের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে; তাই বিসিবি কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের সুরক্ষার বিষয়ে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা মুস্তাফিজুর রহমানকে যেখানে এই সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেখানে পুরো দলকে পাঠানোর বিষয়টি জনমনে গভীর শঙ্কা ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
বোর্ডের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট বর্জন করছে না; বরং তারা তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কার ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তি এবং শারীরিক নিরাপত্তাই বিসিবির কাছে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপের সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আইসিসি এখনো এই চিঠির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও ,তা নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

আইপিএলে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার মহারাজা ও তিপ্রা মথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা।
তার অভিযোগ, বিদেশি ক্রিকেটারদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেধাবী খেলোয়াড়রা নিয়মিতভাবে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিসিসিআই ও আইপিএল কর্তৃপক্ষের নীতির সমালোচনা করে বলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পরও ত্রিপুরা ও আশপাশের অঞ্চলের খেলোয়াড়রা সুযোগ পাচ্ছেন না।
মণিশংকর মুরাসিংয়ের মতো ক্রিকেটারদের উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেধা থাকা সত্ত্বেও কেন তারা নজরের বাইরে থাকছেন। প্রদ্যোতের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু প্রতিভা যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও সুযোগের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একজন বিদেশি ক্রিকেটার যখন কোটি টাকার চুক্তি পান, অথচ স্থানীয় খেলোয়াড়রা অবহেলিত হন, তখন ভারতীয় হিসেবে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এমন প্রেক্ষাপটেও আইপিএলে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা কতটা যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখা দরকার। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সবশেষে বিসিসিআইকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট সংস্থা উল্লেখ করে প্রদ্যোত কিশোর বলেন, জাতীয় সম্মান ও নিরাপত্তা বনাম ব্যবসায়িক স্বার্থ এই বিষয়গুলো নিয়ে আত্মসমালোচনার সময় এসেছে।

ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও দ্রুত এগিয়ে যেতে সক্রিয় হয়েছে সৌদি আরব। ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে দেশটি ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের দিকে নজর দেয়।
এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে খেলোয়াড় ও কোচ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠালেও তাতে সায় দেয়নি বিসিবি। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের তথ্যে জানা যায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারসহ কোচ চেয়েছিল। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেন, নিজ দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন প্রস্তাবে রাজি হওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা করে নিতে সৌদি আরব উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গঠনের কৌশল ভাবছে, যেভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্রিকেট কাঠামো গড়ে তুলেছে।
তবে বাংলাদেশ সেই পরিকল্পনায় যুক্ত হতে আগ্রহ দেখায়নি। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জোরদারে সৌদি আরব ইতোমধ্যে গলফ, ফর্মুলা ওয়ান ও ফুটবলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রমাণও দিয়েছে দেশটি।
এবার আইসিসি ও এসিসির কৌশলগত সহায়তায় ক্রিকেটেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চাচ্ছে সৌদি আরব।