

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় একটি বিয়ের আয়োজন ও একটি দোয়া মাহফিল রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের কাউং জার গ্রামে একটি দোয়া অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালানো হয়। বিদ্রোহী সংগঠন কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানায়, এতে ২২ জন নিহত এবং শিশুসহ অন্তত ২৮ জন আহত হন। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল ওই গ্রামে একজন বৃদ্ধের মৃত্যুর পর দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতির সময় মানুষ জড়ো হয়েছিল।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাড়ির ভেতর ও আঙিনায় ছড়িয়ে থাকা লাশের দৃশ্য দেখা যায়। কেআইএ মুখপাত্র কর্নেল নও বু দাবি করেন, ওই এলাকায় তাদের কোনো ঘাঁটি বা সদস্য ছিল না। তার অভিযোগ, জান্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবেই সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
একই দিনে মাগওয়ে অঞ্চলের আউংলান টাউনশিপের তাট কোনে গ্রামে বিয়ের প্রস্তুতির সময় আরেকটি বিমান হামলায় এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন বলে জানায় স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
এর আগে রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও ও পন্নাগিউন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি পরিচালিত একটি কারাগারেও জান্তা বাহিনীর হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে শুক্রবার স্থানীয় সময় এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আজ শনিবারও বৈঠক অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন প্রতিনিধি অংশ নেন, যাদের মধ্যে স্টিভ উইটকফ ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারাড কুশনার ছিলেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
এর আগে জেলেনস্কি এই উদ্যোগকে যুদ্ধ থামানোর সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভূখণ্ডগত বিরোধ। তিনি স্পষ্ট করেন, সমঝোতার পথে এগোতে হলে রাশিয়াকেও ছাড় দিতে হবে।
রাশিয়ার দাবি, দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি বড় অংশ ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে, যা বর্তমানে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিপরীতে ইউক্রেন দনবাস এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং শর্তসাপেক্ষে সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায়।
মস্কো বৈঠককে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বললেও ক্রেমলিনের ভাষ্য, ভূখণ্ডগত সমস্যার সমাধান ছাড়া টেকসই শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়। শনিবারের বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এবং রাশিয়ার পক্ষে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জেনারেল ইগর কোস্তিউকভ নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদা আলোচনা করবেন রাশিয়ার বিনিয়োগ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু–কাশ্মিরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন ভারতীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দোদা জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর একটি বুলেটপ্রুফ ক্যাসপির গাড়ি অভিযানে যাওয়ার সময় ভাদেরওয়া–চাম্বা আন্তঃরাজ্য সড়কের খান্নি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জম্মু–কাশ্মিরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নিহত সেনাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
আহত সেনাদের দ্রুত বিমানে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর জানান, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কয়েকদিনের তীব্র সংঘর্ষের পর সিরিয়া সরকার ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুই পক্ষ ১৪ দফার একটি সমঝোতায় সই করে, যার লক্ষ্য দীর্ঘদিনের সংঘাত কমিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে একীভূত হওয়া।
চুক্তি অনুযায়ী ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমাঞ্চল থেকে এসডিএফ বাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং সংগঠনটিকে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আরব অধ্যুষিত দেইর আল-জোর ও রাক্কা প্রদেশ থেকেও সরে যেতে সম্মত হয়েছে এসডিএফ। সরকারপক্ষে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং এসডিএফের পক্ষে মাজলুম আবদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, এই সমঝোতার মাধ্যমে আল-হাসাকা, দেইর আজ-জোর ও রাক্কা প্রদেশের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুনরায় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ফিরবে। সোমবার রাজধানী দামেস্কে দুই নেতার বৈঠকের পর চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পথে এগোনোর কথা থাকলেও বিষয়টি বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছে মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্র।
এ চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে জর্ডান, দেশটি বলেছে—এটি সিরিয়ার ঐক্য ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হবে। একই দিনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক অভিযানে আটক করার ঘটনাকে ঘিরে দেশটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা সরকারি বাসভবন থেকে অল্প সময়ের মধ্যে তাকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় শুরু থেকেই ভেতরের সহায়তার বিষয়টি সামনে আসে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নিয়মিতভাবে তার অবস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে সরবরাহ করছিলেন। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না পাওয়ায় রহস্য আরও গভীর হয়। পরবর্তীতে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, মাদুরো গ্রেপ্তারের আগেই ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছিল ট্রাম্প প্রশাসন, যা অভিযানের পরও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র কাবেলোকে সতর্ক করেছিল যেন তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন না চালান। গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশের ওপর কাবেলোর প্রভাব থাকায় মাদুরো অপসারণের পর দেশটির স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে মাদক পাচার মামলায় মাদুরো আটক হয়েছেন, সেই মামলায় কাবেলোর নাম থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা—কাবেলো সক্রিয় হলে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান দুর্বল হবে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে কাবেলোকে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা এবং দমননীতির অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা তল্লাশি কমা ও রাজনৈতিক বন্দিমুক্তির ঘোষণায় নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত দেশটির স্থিতিশীলতা ও তেলসম্পদের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র কাবেলোর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করলেও ভবিষ্যতে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিপুল প্রাণহানির কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে এসব মৃত্যুর দায় তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এ তথ্য উঠে আসে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে দেশজুড়ে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিয়েছেন এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছেন। এ কারণে ট্রাম্পকে তিনি ‘অপরাধী’ আখ্যা দেন এবং সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন।
তবে আন্দোলন দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে খামেনি কোনো মন্তব্য করেননি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও সরকারিভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য নিহতের সংখ্যা কয়েকশ’ ছাড়ায়নি বলে দাবি করেছেন।
খামেনি তার বক্তব্যে বলেন, বিক্ষোভকারীদের একাংশ বিদেশি শক্তির ইন্ধনে কাজ করেছে, আরেকাংশ তরুণ যারা বিভ্রান্ত হয়ে সহিংসতায় জড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় সরকারি স্থাপনা, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিক্ষোভের সময় ইরানে প্রায় পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সীমিতভাবে সংযোগ ফিরলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটে ইরানের কঠোর অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য উত্তেজনা রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে

পাকিস্তানের করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শনিবার রাতের দিকে নগরীর ব্যস্ত এম.এ. জিন্নাহ রোডে অবস্থিত ‘গুল প্লাজা’ নামের একটি শপিং মলে আকস্মিকভাবে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত প্রায় ১০টার দিকে ভবনের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন অধিকাংশ দোকান বন্ধ হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। মলে থাকা বিপুল পরিমাণ কাপড়, প্লাস্টিক ও দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধোঁয়ার কারণে অনেকেই আটকা পড়লেও বেশিরভাগকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
করাচি সিভিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মৃত্যু হয়েছে মূলত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। পুলিশ ধারণা করছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হতে পারে, তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, করাচির বহু বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত অস্থিরতা সৃষ্টির একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা। সংস্থাটি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশজুড়ে পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ঠেকাতে তারা আগাম ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি, সন্দেহজনক তৎপরতা ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রায় চার লাখ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য যাচাই করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, দক্ষিণ ইরানের একটি শহরে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত মাঠপর্যায়ের কর্মী, অর্থের জোগানদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী ও গোয়েন্দা সহযোগীদের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়।
সংস্থাটির ভাষ্য, নয়টি প্রদেশে সংঘর্ষ বাধানোর উদ্দেশ্যে সক্রিয় পাল্টা-বিপ্লবী গোষ্ঠীগুলোর কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করা একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের মূল সংগঠককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মোসাদের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশকারী ৩১ জন ব্যক্তিকেও শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, শত্রুপক্ষ এখনও আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানবিরোধী চাপ তৈরি, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো এবং তথাকথিত ‘কগনিটিভ যুদ্ধ’ চালানোর চেষ্টা করছে। তবে এসব মোকাবিলায় গোয়েন্দা সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাব হবে কঠোর ও ধ্বংসাত্মক। তিনি সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে বিদেশি মদদপুষ্ট ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের কাজ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর নেপথ্যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নির্দেশনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের উড্ডয়নের জন্য সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার ভোরে জারি করা সরকারি এভিয়েশন নোটিশে জানানো হয়, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তেহরানের আকাশসীমা সীমিত থাকবে। তবে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে। এ নিষেধাজ্ঞা ইরানে প্রবেশ ও ইরান ত্যাগকারী সব ফ্লাইটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে তিনি অবহিত হয়েছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে জি-৭ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে ইরানকে সংযম ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিপরীতে ইরান দাবি করেছে, এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদ রয়েছে—যা পশ্চিমা দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরান সরকার এখনো হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে দেশটি ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ইরান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে।
বুধবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় দূতাবাস চালু করা হবে; ততদিন দূর থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের আপাতত ইরানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যা দিন দিন আরও সহিংস রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, ভয়াবহ মুদ্রা অবমূল্যায়ন ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এ আন্দোলনের মূল কারণ। বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশের প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত ও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।