

গত ৮ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইংরেজি তারিখে তিনি একটি নথি প্রেরন করেন
এই নথিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সম্বোধন করা একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি যেখানে "নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস" এর ফরেনসিক অডিট পরিচালনার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
উদ্দেশ্য: সম্ভাব্য ভবিষ্যতের বিনিয়োগ এবং অধিগ্রহণের জন্য নগদের আর্থিক এবং পরিচালনাগত অবস্থা মূল্যায়ন করা।
প্রসঙ্গ: ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়ে পূর্ববর্তী একটি সভার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে নগদ বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি প্রশাসনের অধীনে রয়েছে।
পদক্ষেপের অনুরোধ: স্বচ্ছ মূল্যায়ন সহজতর করার জন্য একটি ফরেনসিক অডিটের ব্যবস্থা করার জন্য সহায়তা।
গুম ফেরত ব্যারিস্টার আরমান ইনভেস্ট করতে চান নগদে, যার ভবিষ্যৎ ইনভেস্টমেন্ট ১০০০ কোটি টাকা যার মধ্যে টেকনিক্যাল কস্টই ৬০০ কোটি টাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২ কোটি টাকা।
ফলে স্বভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে তার সততা নিয়ে। একজন ব্যাক্তির ২ কোটি টাকা সম্পদ থাকলে কিভাবে তিনি ১০০০ কোটি টাকার নগদে ইনভেস্ট করতে পারেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, নিজ এলাকার নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি জানান।
তিনি আহ্বান জানান, ঠাকুরগাঁও-১ এলাকার যেকোনো চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, অনিয়ম বা অপরাধসংক্রান্ত তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি পাঠাতে।
৭ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর থেকে অনেক বার্তা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তার টিম সেগুলো সংকলন করছে এবং শিগগিরই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সরকারে দায়িত্ব পালনকালেই হস্তান্তর করেছেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীনই তিনি পাসপোর্টটি জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ২০ জন উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার ব্যক্তি ইতোমধ্যে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন। তবে কয়েকজন এখনো জমা দেননি, যাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত সরকারি মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ছয় মাস যুক্ত করে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন না হলে সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। প্রায় দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন সরকার গঠন করেছে। ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে।

নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও দায়িত্ব নিয়েছেন। এর পরই আলোচনায় এসেছে—বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন হবে কি না।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন এবং তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ বা অভিশংসন ছাড়া রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয় না। ফলে তিনি পদে বহাল থাকলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।
তবে অতীতে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তাহলে সংসদে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না এবং রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য ঘোষণা করা যাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং কেউ সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে হলে কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক প্রয়োজন হয়। একমাত্র প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘোষণা করেন। মেয়াদ শেষের ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকার ও সংসদের কার্যক্রম শুরুর পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে—বিশেষ করে যদি বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশ থেকে আনা হয় তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত আশিক চৌধুরীকে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় বড় প্রত্যাশা—দেশে বিনিয়োগের জোয়ার আসবে, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বড় পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগ সম্মেলন, সাবলীল উপস্থাপনা ও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যে শুরুতে আলোচনাও তৈরি হয়।
তবে সময় গড়ালেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যায়নি। নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংক খাতের সংকট ও আস্থাহীনতায় দেশি বিনিয়োগকারীরাই পিছু হটছেন। নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আসা তো দূরের কথা, অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি ধরে রাখতেই ব্যস্ত।
সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিনিয়োগের তিনটি প্রধান সূচক—বিডায় নিবন্ধিত প্রস্তাব, এফডিআই এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি—সবই নিম্নমুখী। যদিও নিট এফডিআই কিছুটা বেড়েছে, এর বড় অংশ এসেছে পুরোনো বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে। নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ নেমে এসেছে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
বিডার নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাবেও বড় ধস নেমেছে। করোনাকালের চেয়েও কম বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে সাম্প্রতিক অর্থবছরে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের হার, ঋণপ্রবাহ ও শিল্পের মূলধনী আমদানি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শিল্প বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থান হ্রাসের ঘটনাও বাড়ছে।
ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিনিয়োগের বড় বাধা। বিদেশি কূটনীতিকদের কাছ থেকেও বড় বিনিয়োগ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা মিলছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আশিক চৌধুরীর উদ্যোগ ও সক্রিয়তা থাকলেও কাঠামোগত সংস্কার এগোয়নি। নীতিগত পরিবর্তন ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের বদলে বড় অবকাঠামো ও ‘হাই-ভ্যালু’ চুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ প্রচারণা যতটা জোরালো ছিল, বাস্তব ফলাফল ততটাই সীমিত থেকেছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত–সংক্রান্ত ইস্যুগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
এনডিটিভির মতে, বিএনপি ইশতেহারে সীমান্ত হত্যা, ভারত থেকে পুশ-ইন এবং অমীমাংসিত নদীর পানি বণ্টন—এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। দলটি জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে সমতা ও আত্মসম্মানের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে স্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে— ‘বন্ধুকে হ্যাঁ, প্রভুকে না’।
ইশতেহারে বিএনপি ঘোষণা করেছে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপও গ্রহণ করবে না। সীমান্তে হত্যা, পুশ-ইন ও চোরাচালান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে বিএনপি তিস্তা ও পদ্মাসহ অভিন্ন নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় বিশ্লেষকদের ধারণা—বিএনপি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল নিতে চায়। ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলেও বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো খোলা রাখতে আগ্রহী দলটি।
এ ছাড়া সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনের প্রচেষ্টার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করেছে বিএনপি, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর বাড়াবে এবং একক দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় আছে কেউ কারও কাজে বাধা দিতে পারবে না। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ভোট চাইতে গিয়ে আমি নিজেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছি । ভোটের পরিবেশ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই রাতের আধারে বিভিন্ন স্থানে আমাদের নির্বাচনী ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলছে, অফিসগুলোতে আগুন দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ।
তিনি আরও বলেন, ভোটের কর্মীদের বিভিন্ন দিক থেকে হুমকি দিচ্ছে। মানুষকে বাধ্য করা হচ্ছে ভোটের দিক থেকে দূরে রাখার এসব কারণে আমরা খুব শঙ্কিত। শঙ্কিত এই জন্য যে প্রত্যেক নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপরাধীদের গ্রেপ্তারে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সে ধরনের তৎপরতা দেখছি না। আমরা বিভিন্ন প্রকার অভিযোগ দিচ্ছি কিন্তু অভিযোগের বাস্তব কোন ফল আমরা দেখছি না।
নির্বাচন বিধিমালা নিয়ে তিনি বলেন, পিভিসি ব্যানার লাগানো নিষেধ। আমরা দেখছি যে প্রতিপক্ষের প্রতিটি ব্যানার পিভিসিতে সেগুলো তারা লাগিয়েছে সে ব্যাপারে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, একটি ওয়ার্ডে একটির বেশি অফিস করার বিধান নেই কিন্তু একটি ওয়ার্ডে তাদের পাঁচটি পর্যন্ত অফিস দেখতে পাচ্ছি। এতো গুলো অফিস তো নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা পরিপন্থী। এগুলোর ব্যাপারে কেন নির্বাচন কমিশন নীরব। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও কেন নীরব বিষয়টি আমার বুঝে আসে না। সব মিলিয়ে এই নির্বাচন একটি প্রহসনের নির্বাচন হচ্ছে কি না আমাদের ও জনগনের মনে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
গণসংযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. ইউসুফ আলী, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আতাউর রহমান সহ নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আমিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আট বিভাগে ৩২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা স্বাক্ষর করেন উপসচিব মোহাম্মদ নুর এ আলম।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর রাখতে ভোটগ্রহণের আগের সময়সহ ভোটের পর আরও দুই দিন পর্যন্ত এসব বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার কর্মকর্তাকে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১০(৫) ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়।
বিভাগভিত্তিক পদায়নের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খুলনা ও রাজশাহীতে ৪ জন করে, বরিশাল ও রংপুরে ৩ জন করে, সিলেটে ২ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনাররা এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটদের পদায়ন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যোগদান করতে হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রতিটি কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা প্রশাসনকে অবহিত রাখা এবং প্রতিদিন নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রতিবেদন পাঠানো বাধ্যতামূলক থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অ্যাকাউন্ট ফিরে পেয়ে দেওয়া এক পোস্টে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে জামায়াত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তাকে ঘিরে কিছু বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার শুরু থেকেই পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট। নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই দলের মূল নীতি। তাদের লক্ষ্য নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন ও জনসেবায় সম্মানজনক ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, ইশতেহারে নারীদের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সমান বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আগামী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করা হবে। পোস্টের শেষে তিনি বলেন, “নারীর মর্যাদা রক্ষাকারী বাংলাদেশই এগিয়ে যাওয়ার বাংলাদেশ।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশ শেখ হাসিনার শাসন থেকে মুক্ত হলেও এখন নতুন করে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরিপক্ব শক্তির হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে। শনিবার রাজধানীর পল্টনের আনন্দ ভবনে বায়রা ও হাব নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু তরুণ নেতা হঠাৎ ক্ষমতাবান হয়ে দায়িত্বহীন বক্তব্য দিচ্ছে এবং অহেতুক বিতর্ক তৈরি করছে। নিজের নাম টেনে আনা প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, রাজনীতি করতে হলে আগে মূল্যবোধ ও শালীনতা শিখতে হবে।
ঢাকা–৮ আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, একটি গোষ্ঠী এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত যা সারাদেশের নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবু বিএনপি ধৈর্য ধরে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায় বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন কোনো দানের ফল নয়; দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও আন্দোলনের ফসল। শেখ হাসিনার পতনের পরও বিএনপির নেতারা ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা পাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একটি দলের বিপুলসংখ্যক বোরকা অর্ডার দেওয়ার পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস সতর্ক করেন, ভোটের ফল প্রকাশে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ভোটের আগেই আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো পোলিং এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়বে না।