যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–সমর্থিত অস্থিরতা সৃষ্টির একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা। সংস্থাটি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশজুড়ে পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ঠেকাতে তারা আগাম ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি, সন্দেহজনক তৎপরতা ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রায় চার লাখ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য যাচাই করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, দক্ষিণ ইরানের একটি শহরে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত মাঠপর্যায়ের কর্মী, অর্থের জোগানদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী ও গোয়েন্দা সহযোগীদের আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়।

সংস্থাটির ভাষ্য, নয়টি প্রদেশে সংঘর্ষ বাধানোর উদ্দেশ্যে সক্রিয় পাল্টা-বিপ্লবী গোষ্ঠীগুলোর কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করা একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের মূল সংগঠককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মোসাদের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশকারী ৩১ জন ব্যক্তিকেও শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, শত্রুপক্ষ এখনও আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানবিরোধী চাপ তৈরি, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো এবং তথাকথিত ‘কগনিটিভ যুদ্ধ’ চালানোর চেষ্টা করছে। তবে এসব মোকাবিলায় গোয়েন্দা সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাব হবে কঠোর ও ধ্বংসাত্মক। তিনি সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে বিদেশি মদদপুষ্ট ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের কাজ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর নেপথ্যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নির্দেশনা রয়েছে।