ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি ভঙ্গ ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

গত ২৯ জানুয়ারি দশমিনা–গলাচিপা আসনের জন্য গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। দশমিনাস্থ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশে স্বাক্ষর করেন কমিটির সদস্য ও বরিশালের সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ। বিষয়টি শুক্রবার রাতে প্রকাশ্যে আসে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অ্যাডভোকেট এনামুল হকের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।

এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাতে দশমিনার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজারে হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে নুরের সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায় এবং এতে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারা পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে নুরুল হক নুরকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না—এ মর্মে কারণ ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দশমিনা থানার ওসিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশের বিষয়ে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। যদিও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো. হাসান মামুন দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমানে নুর ‘ট্রাক’ এবং হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে।