নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও দায়িত্ব নিয়েছেন। এর পরই আলোচনায় এসেছে—বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন হবে কি না।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন এবং তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ বা অভিশংসন ছাড়া রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয় না। ফলে তিনি পদে বহাল থাকলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।

তবে অতীতে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তাহলে সংসদে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না এবং রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য ঘোষণা করা যাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং কেউ সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে হলে কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক প্রয়োজন হয়। একমাত্র প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘোষণা করেন। মেয়াদ শেষের ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকার ও সংসদের কার্যক্রম শুরুর পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে—বিশেষ করে যদি বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।