দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। প্রথমবারের মতো করাচি ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য এখন আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া এক লিখিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বে করাচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে যেখানে প্রায় ২৩ দিন সময় লাগত, এখন মাত্র ১০ দিনেই তা সম্পন্ন হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় কমেছে এবং পণ্য পরিবহনের কার্যকারিতা বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সম্প্রতি পাকিস্তানি পণ্যের বাধ্যতামূলক শতভাগ পরিদর্শন প্রক্রিয়া বাতিল করেছে।


ইসহাক দার এটিকে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার এক বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ উদ্যোগের ফলে পণ্য খালাসের গতি বাড়বে, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ, এবং পাকিস্তানি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করবে।


তিনি আরও জানান, গত ২৭ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন (জেইসি) বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত এক চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন চাল সরবরাহ করেছে এবং মোট ২ লাখ টন চাল রপ্তানির অঙ্গীকার করেছে।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও ডেনিম এক্সপোতে পাকিস্তানের প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের পোশাক ও উৎপাদন খাতে পাকিস্তানের আগ্রহের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।