

টানা ভারী বৃষ্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যা দেশটিকে গুরুতর মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকটে ফেলেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লিম্পোপো, এমপুমালাঙ্গা, কওয়াজুলু-নাতাল, ইস্টার্ন কেপ ও নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে লিম্পোপো প্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১,৩০০টি বাড়িঘর। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ও সরকারি স্থাপনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার প্রভাবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক।
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে ইতোমধ্যে এমপুমালাঙ্গা প্রদেশে গেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ভেলেনকোসিনি হ্লাবিসা। তিনি ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে দেখেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সরকার, উদ্ধারকারী সংস্থা এবং স্থানীয় কমিউনিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বইছে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলার মধ্যে তেঁতুলিয়ায় শীতের দাপট সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এদিন দেশের সর্বনিম্ন। টানা তিন দিন ধরে এখানেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নথিভুক্ত হচ্ছে। আগের দিন শনিবার সকালে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ২১ ডিগ্রিতে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও শিশিরের মতো ঝরঝরে কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা আরও নেমে গেছে, ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
সকালে দেখা গেছে, কনকনে ঠান্ডায় মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানের পাশে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন শীতার্তরা। হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভুগছেন।
স্থানীয় চা শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীরা জানান, হিমশীতল বাতাসে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবুও জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চলে শীত বেশি অনুভূত হয় এবং আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে দিন দিন শীতের দাপট বাড়ছে। হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। হঠাৎ করে তাপমাত্রা এক অঙ্কে নেমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে শতভাগ আর্দ্রতা ও ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইছিল, যা শীতের প্রকোপ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগের দিন সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কয়েক দিন ধরে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জেলার বিভিন্ন এলাকা। অনেক স্থানে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। সকাল ও সন্ধ্যায় কুয়াশা ঘন হওয়ায় সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।
তীব্র শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা কাজে যেতে না পারায় আয় কমে গেছে, ফলে অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের রাতগুলো হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, হিমেল বাতাসের কারণে পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েক দিন সকাল ও সন্ধ্যায় কুয়াশা থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘন কুয়াশায় রোববার সকালে রাজধানীর আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দৃশ্যমানতা নেমে যাওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা প্রায় চার ঘণ্টা কোনো উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারেনি। এতে আটটি ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠাতে হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ৬টার পর কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে উড্ডয়ন ও অবতরণ—দুটিই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। নির্ধারিত সময়ে নামতে না পেরে ঢাকার আকাশে ঘোরাফেরা করা বেশ কয়েকটি ফ্লাইট পরে ডাইভার্ট করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি সিলেট, একটি কলকাতা এবং একটি হ্যানয় বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি; তবে পর্যাপ্ত ভিজিবিলিটি না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটের দিকে কুয়াশা কিছুটা কেটে গেলে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। দিনের প্রথমভাগে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

ঘন কুয়াশা ও উত্তরের শীতল বাতাসে চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন।
শীত বাড়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোর থেকেই কুয়াশায় ঢেকে যায় চারপাশ, দৃশ্যমানতা নেমে আসে প্রায় ২০০ মিটারে। ফলে সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। বেলা গড়ালেও সূর্যের দেখা মেলেনি।
এদিকে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৯টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীত ও কুয়াশার প্রকোপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিলেটে মধ্যরাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দু’দফা ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ২টা ২০ মিনিটে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৩.৫ এবং গভীরতা ২০ কিলোমিটার। এরপর ২টা ২৫ মিনিটে আবারো ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে; এর গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার—তথ্য ভারতীয় ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির।
এ সময় অঞ্চলজুড়ে আরও কয়েকটি ভূকম্পন রেকর্ড হয়। রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প এবং রাত ২টা ৫৪ মিনিটে মিয়ানমারে ৩.৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও দেশে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকায় ৪.১ মাত্রার কম্পন এবং তার আগে ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার–চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আরও আগে ২১ নভেম্বর নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু ও শতাধিক মানুষ আহত হন।

মিয়ানমারে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)–এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ২টা ২১ মিনিটে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তিস্থল ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একই অঞ্চলে ৩.৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যার গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেছেন যে মিয়ানমারের কম্পন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতেও টের পাওয়া গেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এখন পর্যন্ত দুই অঞ্চলের গ্রাম, শহর ও উপকূলীয় এলাকা মিলিয়ে ৯১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর অন্তত ২৭৪ জন এখনো নিখোঁজ— এমন তথ্য শনিবার সরকারি ও প্রাদেশিক সূত্র উদ্ধৃত করে জানায় রয়টার্স।
সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি আচেহের তামিয়াং জেলায়। সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটে পড়েছে স্থানীয় মানুষ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
১৪ বছর বয়সী দিমাস ফিরমানসিয়াহ জানান, বন্যায় তাদের ইসলামি আবাসিক বিদ্যালয় এক সপ্তাহ ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। পানির মজুদ শেষ হওয়ায় তিনি ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বন্যার পানি ব্যবহার করছেন।
তামিয়াংয়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ত্রাণ কেন্দ্রে খাবার ও পানি নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
যদিও কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট প্রবাও সুবিয়ান্তো দাবি করেছিলেন যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে এবং সরকারের প্রস্তুতি সন্তোষজনক, বাস্তবে স্থানীয় প্রশাসন তার সঙ্গে একমত নয়। সুমাত্রা ও আচেহ— উভয় প্রদেশ থেকেই কেন্দ্রকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় তেঁতুলিয়াসহ পুরো জেলায় শীত স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। কয়েক দিন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে তাপমাত্রা ওঠানামার পর মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
সকালে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৯ শতাংশ, ফলে শীত আরও তীব্র মনে হয়েছে। সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় উপজেলা ঢেকে থাকায় রাস্তায় দৃশ্যমানতা কমে যায়। তেঁতুলিয়া–পঞ্চগড় সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে চলতে বাধ্য হয়।
এর আগের দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক দিন ধরেই ১৩ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা থাকলেও ভোরের ঠান্ডা বাতাস শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অটোচালক ফারুক জানান, ভোরে রাস্তায় নামলে প্রচণ্ড ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে, কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। যাত্রীও কমে গেছে, ফলে আয়ে প্রভাব পড়ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, প্রতিদিনই শীত বাড়ছে। তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি থেকে নেমে আজ ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে এসেছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি সামনে শৈত্যপ্রবাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।a

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও টানা ভারি বর্ষণে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক দুর্যোগ বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আর শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ।
ইন্দোনেশিয়ায় সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্টো জানান, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে ৩০৩ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ৩০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য দেশে পরিস্থিতি
থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬২।
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে ১৩০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ১৭০ জন নিখোঁজ থাকায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার পেরলিসসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে ডুবে গেছে, মারা গেছেন অন্তত ২ জন।
ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
মৌসুমি বৃষ্টির পাশাপাশি মালাক্কা প্রণালিতে সৃষ্ট বিরল ক্রান্তীয় ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই দুর্যোগে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন।