মূলধন ফেরত দেওয়া নিয়ে সংকট, বেক্সিমকোর সুকুকের মেয়াদ আরও ৬ বছর বাড়াতে সুপারিশ

ব্যবসা | অফিস ডেস্ক
বেক্সিমকো গ্রুপ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে তারা বিনিয়োগকারীদের মূলধন ফেরত দিতে পারবে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় গঠিত ওয়ার্কিং কমিটি বন্ডটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩২ সাল পর্যন্ত করার সুপারিশ করেছে। আইসিবি–নেতৃত্বাধীন কমিটির মতে, বর্ধিত সময় দিলে তিনটি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া যাবে।
সুকুক বন্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ডের একটি বড় অংশ বেক্সিমকোর শেয়ারে রূপান্তর হওয়ার কথা থাকলেও বাজার পরিস্থিতি ও ফ্লোর প্রাইসের কারণে কনভার্সন হয়েছে অতি সামান্য; ফলে বেশিরভাগ মূলধনই এখনো বকেয়া রয়ে গেছে।
তিনটি প্রকল্পের মধ্যে তিস্তা সোলার পার্কই একমাত্র নিয়মিত আয় দিচ্ছে, যা দিয়ে এখন পর্যন্ত মুনাফা পরিশোধ সম্ভব হয়েছে। তবে করতোয়া সোলার প্ল্যান্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বন্ধ রয়েছে এবং এটি পুনরায় চালু করতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। একইভাবে টেক্সটাইল ইউনিটও এলসি জটিলতায় আংশিক বন্ধ, ফলে সুকুকের আয়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।
ওয়ার্কিং কমিটি জানিয়েছে, করতোয়া প্রকল্প সচল হলে মেয়াদ বাড়ানো ছয় বছর থেকে পাঁচ বছরেও নামিয়ে আনা যেতে পারে। বন্ডটির বর্তমান ৯ শতাংশ লাভের হার অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর জমি, টেক্সটাইল ইউনিটের ভবনসহ আরও সম্পদ বন্ধক রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
তবে মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভিন্নমত আছে। আইএফআইসি সিকিউরিটিজ মেয়াদ বাড়াতে রাজি হলেও মুনাফার হার বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে বেক্সিমকো বলছে, অতিরিক্ত সময় পেলেই পুরো মূলধন ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব।
এখন বাংলাদেশ ব্যাংক কমিটির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিএসইসিতে পাঠাবে। এরপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বন্ডের শর্ত পরিবর্তন ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।










