আজ ১২ই রবিউল আউয়াল, যা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার জন্ম ও ওফাতের এই পুণ্যময় দিনটিকে সারা বিশ্বে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করা হয়।


এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণী দিয়েছেন। তার বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, মহানবীর অতুলনীয় জীবনদর্শন এবং সর্বজনীন শিক্ষা আজকের এই সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব উভয় জীবনেই মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও সুন্নাহ আমাদের জন্য সর্বোত্তম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এর মধ্যেই মানবজাতির জন্য অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা এবং প্রকৃত শান্তি নিহিত রয়েছে।

ড. ইউনূস তার বার্তায় মহানবী (সা.)-কে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে মানবজাতির হেদায়েত ও মুক্তির জন্য পাঠিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহানবী (সা.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, “হে নবী, আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমতরূপে প্রেরণ করেছি” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)। মহানবী (সা.) দুনিয়ায় এসেছিলেন ‘সিরাজাম মুনিরা’ বা আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে, যেন তিনি সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার এবং অন্ধকার থেকে মানবজাতিকে মুক্তি ও আলোর পথ দেখাতে পারেন।


এছাড়াও, প্রধান উপদেষ্টা তার বাণীতে উল্লেখ করেন যে, আল্লাহর প্রতি মহানবীর অসীম আনুগত্য এবং তার অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে পবিত্র কোরআনে তার জীবনকে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ্’ বা সুন্দরতম আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি কামনা করেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সবার মাঝে অপার শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক এবং মহানবীর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে সবার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি নিশ্চিত হোক। তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য আরও সুসংহত হওয়ারও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।