দক্ষিণ মেরুল বাড্ডার ছোট্ট অফিস কারখানায় বসে টিবিএসকে গল্প করছিলেন রাসেল জায়েদী যিনি প্লাস্টিক, ধাতু বা লোহা নয়, কাঠের ফ্রেমে চশমা বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। ২০২০ সালে করোনাকালে অনলাইন ব্যবসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাসেল ও ওপটোমেট্রিস্ট বন্ধু খসরু সুমন ‘রোদচশমা’ শুরু করেন। শুরুতে চীনের প্লাস্টিক ফ্রেম বিক্রি হলেও, রাসেল শিল্প ও সৃজনশীলতার ছাপ রাখতে কাঠের চশমা তৈরির দিকে মনোনিবেশ করেন।


কাঠের ফ্রেম তৈরি করা সহজ ছিল না প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়, লেন্স পড়ে যায়। দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম ও শেখার পর ২০২৩ সালের শেষের দিকে বিক্রির উপযোগী কাঠের চশমা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রথম ক্রেতা কলকাতা থেকে আসে। এরপর দ্রুত দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা ও আঠারোটি দেশে রোদচশমার কাঠের চশমা যাচ্ছে।


চশমাগুলো তৈরি হয় বার্মাটিক কাঠ থেকে, পুরো প্রক্রিয়াই হাতে করা হয়। কাঠের স্বাভাবিক রঙ রাখা হয়, হালকা ও টেকসই। ছয়জন কর্মী নিয়ে কারখানা পরিচালনা হচ্ছে, মাসে ২৫০–৩০০টি চশমা উৎপাদন হয়। সব ডিজাইনের নাম রাখা হয়েছে পাখির নামে, যেমন ‘পেঁচা’, ‘ময়ূর’, ‘টুনটুনি’।


‘রোদচশমা’ সম্প্রতি কোম্পানি লিমিটেড হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স পেয়েছে। এমডি রাসেল জায়েদী, চেয়ারম্যান খসরু সুমন। কাঠের শিল্প এই দুই সৃজনশীল উদ্যোক্তার হাত ধরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে। রাসেলের ভাষায়, “ভালোবাসা থেকে শুরু হওয়া কাজ একদিন মানুষের মনে স্থান করে নেয়।”