বাংলাদেশের ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন মাইলফলক গড়েছেন প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম (মো. সালাউদ্দিন মিয়া)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পেশাদার সংস্থা Society of Broadcast Engineers (SBE) থেকে Certified Broadcast Technologist (CBT) সার্টিফিকেশন অর্জন করে তিনি দেশের প্রথম ব্রডকাস্ট টেকনোলজিস্ট হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করেন।


২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে CBT পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) তার ফলাফল প্রকাশ ও সনদ প্রদান করা হয়। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এই সার্টিফিকেশন ব্রডকাস্ট ও ডিজিটাল মিডিয়া প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।


CBT হলো SBE-এর একটি উচ্চমানের টেকনিক্যাল সার্টিফিকেশন, যা ব্রডকাস্ট, মিডিয়া, আইপি-বেজড প্রোডাকশন ও ট্রান্সমিশন খাতে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে দেখা হয়। এই সনদ প্রাপ্তির মাধ্যমে একজন পেশাজীবীর জ্ঞান ও সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাচাই হয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত SBE বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সার্টিফিকেশন কার্যক্রমের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।


দুই দশকের বেশি সময় ধরে সালাউদ্দিন সেলিম দেশের ব্রডকাস্ট ও মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বর্তমানে তিনি সময় টেলিভিশনে সম্প্রচার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি একাধিক টিভি চ্যানেলে কাজ করার পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেলের প্রযুক্তি পরামর্শক ছিলেন।


তিনি টিভি চ্যানেলের ব্রডকাস্ট সিস্টেম ডিজাইন, ওয়ার্কফ্লো নির্মাণ ও ইনস্টলেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি আইপিটিভি, ডিজিটাল মিডিয়া প্রকল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরে ব্রডকাস্ট টেকনোলজি কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আইপি-ভিত্তিক লাইভ ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি উন্নয়নের কৃতিত্বও তার।


দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে নীরবে কাজ করে আসা সালাউদ্দিন সেলিম জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তিনি হাজারেরও বেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পেশাগতভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে ব্রডকাস্টিং ল্যাব স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন।


এই অর্জন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, CBT সার্টিফিকেশন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ব্রডকাস্ট পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে এবং দেশের ব্রডকাস্ট প্রযুক্তিকে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।