

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা World STEM Invention & Innovation 2026 (WYSII 2026)-এ বাংলাদেশ অর্জন করেছে এক ঐতিহাসিক সাফল্য। এই প্রতিযোগিতায় Team EngloVoice স্বর্ণপদক (Gold Medal), MYSO Special Award এবং Best Poster Award অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
বাংলাদেশ ইয়াং সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইনোভেটরস সোসাইটি (BYSiS)-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী Team EngloVoice Computing, Artificial Intelligence এবং Digital Innovation ক্যাটাগরিতে তাদের ব্যতিক্রমী ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
৩০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১,০০০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতাটি বৈশ্বিক অংশগ্রহণের রেকর্ডের জন্য Malaysia Book of Records-এ স্বীকৃতি লাভ করে, যা প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও দৃঢ় করে।
এই সাফল্য প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের তরুণরা কেবল স্বপ্ন দেখেই থেমে নেই—তারা বৈশ্বিক মানের উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করছে। এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতে অগ্রযাত্রার এক গর্বের অধ্যায়।
এই প্রেক্ষাপটে, আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—এই আন্তর্জাতিক অর্জনটি প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে আমাদের পাশে থাকার জন্য। আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন আমাদের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা বা ভ্রমণ ভিসা নিতে নতুন শর্ত চালু হচ্ছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক বি–১/বি–২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য অনুমোদন পাবেন, তাদের ‘ভিসা বন্ড’ হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা দিতে হবে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নিয়ম ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তবে এর আগে ইস্যু করা বৈধ বি–১/বি–২ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই বন্ড জমার শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে কোনো অবস্থাতেই বন্ড পরিশোধ করা যাবে না। আগাম অর্থ প্রদান করলে তা ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না এবং তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাক্ষাৎকারের আগে দেওয়া কোনো অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। তবে ভিসার সব শর্ত সঠিকভাবে পালন করলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এই আসন থেকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে প্রচারণা শুরু করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি, যিনি সম্প্রতি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন।
বিস্তারিত আসছে...

বাংলাদেশের ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন মাইলফলক গড়েছেন প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম (মো. সালাউদ্দিন মিয়া)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পেশাদার সংস্থা Society of Broadcast Engineers (SBE) থেকে Certified Broadcast Technologist (CBT) সার্টিফিকেশন অর্জন করে তিনি দেশের প্রথম ব্রডকাস্ট টেকনোলজিস্ট হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করেন।
২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে CBT পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) তার ফলাফল প্রকাশ ও সনদ প্রদান করা হয়। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এই সার্টিফিকেশন ব্রডকাস্ট ও ডিজিটাল মিডিয়া প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
CBT হলো SBE-এর একটি উচ্চমানের টেকনিক্যাল সার্টিফিকেশন, যা ব্রডকাস্ট, মিডিয়া, আইপি-বেজড প্রোডাকশন ও ট্রান্সমিশন খাতে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে দেখা হয়। এই সনদ প্রাপ্তির মাধ্যমে একজন পেশাজীবীর জ্ঞান ও সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাচাই হয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত SBE বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সার্টিফিকেশন কার্যক্রমের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে সালাউদ্দিন সেলিম দেশের ব্রডকাস্ট ও মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বর্তমানে তিনি সময় টেলিভিশনে সম্প্রচার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি একাধিক টিভি চ্যানেলে কাজ করার পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেলের প্রযুক্তি পরামর্শক ছিলেন।
তিনি টিভি চ্যানেলের ব্রডকাস্ট সিস্টেম ডিজাইন, ওয়ার্কফ্লো নির্মাণ ও ইনস্টলেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি আইপিটিভি, ডিজিটাল মিডিয়া প্রকল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরে ব্রডকাস্ট টেকনোলজি কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আইপি-ভিত্তিক লাইভ ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি উন্নয়নের কৃতিত্বও তার।
দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে নীরবে কাজ করে আসা সালাউদ্দিন সেলিম জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তিনি হাজারেরও বেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পেশাগতভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে ব্রডকাস্টিং ল্যাব স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
এই অর্জন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, CBT সার্টিফিকেশন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ব্রডকাস্ট পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে এবং দেশের ব্রডকাস্ট প্রযুক্তিকে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের অকারণে অপরাধী হিসেবে দেখানো বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সহসভাপতি ও রেনাটার এমডি সৈয়দ এস কায়সার কবির। তাঁর মতে, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে উদ্যোক্তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, পণ্য রপ্তানি বাড়াতে হলে বিদেশে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে, যাতে দেশ অতিরিক্ত ডলার অর্জন করতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, দেশে ওষুধের দাম বিশ্বের তুলনায় সবচেয়ে কম, অথচ ব্যবসায়ীদের ‘রক্তচোষা’ বলা হয়। সময়ের সাথে ওষুধ খাতে নিট মুনাফা ১৫ শতাংশ থেকে নেমে ৫ শতাংশে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ওষুধশিল্পে বৈচিত্র্য আনতে হবে। মার্কিন বাজারসহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনুমোদন পেলে বাংলাদেশি ওষুধের ব্র্যান্ডমূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। তাই রপ্তানি বিস্তারে ওষুধশিল্পকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে ‘বাবরি মসজিদ’ নামে নতুন একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এ বিষয়ে করা মামলা কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করায় অনুষ্ঠানে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। আদালত শুধু প্রশাসনকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।
এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে চাপে ওঠে। গভর্নর সি ভি আনন্দ বোস তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেও হুমায়ুন জানান—শনিবার দুপুরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। তার দাবি, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অর্থায়নে তিন বছরের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত হবে।
অনুষ্ঠান ঘিরে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হুমায়ুনের নিজস্ব দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবীও নিরাপত্তায় অংশ নেবেন। মরাদিঘি এলাকার প্রায় ২৫ বিঘা জায়গাজুড়ে আয়োজনটি করা হচ্ছে, যেখানে প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঞ্চ নির্মাণ, খাবার পরিবেশনসহ পুরো ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০–৭০ লাখ টাকা। শুধু অতিথিদের জন্যই বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে ৪০ হাজার জনের।
বিজেপির মতে, এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, হুমায়ুন সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করছেন। সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন জানান, তিনি ১৭ ডিসেম্বর বিধায়ক পদ ছাড়বেন এবং ২২ ডিসেম্বর নতুন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেবেন।

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর গ্রামের আলেপ উদ্দিন কমলা চাষ করে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। তার ৩০ শতাংশ জমিজুড়ে থাকা বাগানের প্রতিটি গাছে ঝুলছে থোকা থোকা সবুজ ও হলুদ কমলা—দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় সবার।
২০২১ সালে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ‘লেবু জাতীয় ফসল সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় তিনি ৯০টি চাইনিজ জাতের কমলার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে প্রতিটি ১০ ফুট উঁচু গাছে ৩০–৪০টি করে কমলা ধরে। নিয়মিত পরিচর্যায় বাগান এখন ফলভারে নুয়ে পড়েছে।
প্রথম বছরে ২০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করে শুরু হলেও ২০২৪ সালে বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ টাকার বেশি। এবার তিনি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশায় আছেন। এরই মধ্যে সবুজ অবস্থায় প্রায় ৩০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেছেন তিনি।
আলেপ উদ্দিন জানান, ছোট আকারের কমলার চাহিদা বেশি। তাই এ বছর তিনি আরও ২০০টি চারা রোপণ করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় জানান, তারাগঞ্জে বর্তমানে ১ হেক্টর জমিতে ৩০টি কমলার বাগান, ৩৫ হেক্টর জমিতে মাল্টা এবং ৭ হেক্টর জমিতে লেবুর বাগান রয়েছে—যেগুলোর সবগুলোতেই কৃষি দপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ মেরুল বাড্ডার ছোট্ট অফিস কারখানায় বসে টিবিএসকে গল্প করছিলেন রাসেল জায়েদী যিনি প্লাস্টিক, ধাতু বা লোহা নয়, কাঠের ফ্রেমে চশমা বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। ২০২০ সালে করোনাকালে অনলাইন ব্যবসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাসেল ও ওপটোমেট্রিস্ট বন্ধু খসরু সুমন ‘রোদচশমা’ শুরু করেন। শুরুতে চীনের প্লাস্টিক ফ্রেম বিক্রি হলেও, রাসেল শিল্প ও সৃজনশীলতার ছাপ রাখতে কাঠের চশমা তৈরির দিকে মনোনিবেশ করেন।
কাঠের ফ্রেম তৈরি করা সহজ ছিল না প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়, লেন্স পড়ে যায়। দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম ও শেখার পর ২০২৩ সালের শেষের দিকে বিক্রির উপযোগী কাঠের চশমা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রথম ক্রেতা কলকাতা থেকে আসে। এরপর দ্রুত দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা ও আঠারোটি দেশে রোদচশমার কাঠের চশমা যাচ্ছে।
চশমাগুলো তৈরি হয় বার্মাটিক কাঠ থেকে, পুরো প্রক্রিয়াই হাতে করা হয়। কাঠের স্বাভাবিক রঙ রাখা হয়, হালকা ও টেকসই। ছয়জন কর্মী নিয়ে কারখানা পরিচালনা হচ্ছে, মাসে ২৫০–৩০০টি চশমা উৎপাদন হয়। সব ডিজাইনের নাম রাখা হয়েছে পাখির নামে, যেমন ‘পেঁচা’, ‘ময়ূর’, ‘টুনটুনি’।
‘রোদচশমা’ সম্প্রতি কোম্পানি লিমিটেড হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স পেয়েছে। এমডি রাসেল জায়েদী, চেয়ারম্যান খসরু সুমন। কাঠের শিল্প এই দুই সৃজনশীল উদ্যোক্তার হাত ধরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে। রাসেলের ভাষায়, “ভালোবাসা থেকে শুরু হওয়া কাজ একদিন মানুষের মনে স্থান করে নেয়।”

খুব শিগগিরই একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল কুয়েত সফরে যাচ্ছে। কুয়েত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে প্রতিনিধিদল কুয়েত চেম্বারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করবেন।
এ উপলক্ষে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। দূতাবাসের মাল্টিপারপাস হলরুমে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীরা সরাসরি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রবাসী ব্যবসায়ীদেরকে তাদের নাম, সিভিল আইডি নম্বর এবং প্রতিষ্ঠানের নামসহ hoc.kuwait@mofa.gov.bd ঠিকানায় ইমেইলের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সভাপতি এবং সিনিয়র সাংবাদিক মঈন উদ্দিন সরকার সুমন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সফর বাংলাদেশের পাশাপাশি কুয়েত প্রবাসী ব্যবসায়ীদের জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনাময় এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আছে। তারা যদি কুয়েত চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয়ভাবে পণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন করতে পারে, তাহলে কুয়েতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।
মঈন উদ্দিন সুমন আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে কুয়েতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।